বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ

সংগঠন পরিচালনা

বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে করণীয়

ইসলামী আন্দোলন তথা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর হক আদায় করার জন্য আমরা ইসলামী সংগঠনভুক্ত হয়েছি। সংগঠনের সাথে মিলেমিশে, সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কর্তৃক প্রদত্ত ফরজ ইবাদাত-জিহাদের দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টায় সংগঠনের সাথে মিলে কাজ করতে গিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে নানাবিধ দায়িত্ব আমাদের উপরে দেওয়া হয়। সেসব দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা চেষ্টা করি। মূলত দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আমাদের রব আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করতে চাই। আর আল্লাহ খুশি হলে পুরস্কারস্বরূপ তিনি আমাদেরকে পরকালে জান্নাত দেবেন। অতএব এক্ষেত্রে জান্নাতপ্রাপ্তি মুখ্য একটি চাওয়া। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, জান্নাত পাওয়ার জন্য থানা সভাপতি হওয়ার কোনো শর্ত নেই, ওয়ার্ড সভাপতি হওয়ার কোনো জরুরিয়ত নেই, উপশাখা বা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং একজন সাধারণ কর্মীও যদি খুলুসিয়াতের সাথে সর্বোচ্চ আন্তরিকতাসহ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে এবং আল্লাহ তায়ালা তার সে প্রচেষ্টা কবুল করে তাকে জান্নাতে ঠাঁই দেন, তাহলে সেটাই তার সফলতার কারণ হবে। অপরপক্ষে দায়িত্ব যত বড় হয়, আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কাঠগড়া ও পরিসর তত বড় হয়। আমাদের মধ্যে শঙ্কা আর ভয় বাড়ে যে, আমরা এই দায়িত্বের পরিসরের আলোকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে পারবো কিনা! আবার এটাও সত্য যে, ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকেই মঞ্জুর হয়। এ দায়িত্ব যেমনিভাবে চেয়ে নেয়ার সুযোগ নেই, একইভাবে এই দায়িত্ব কারও উপর আসলে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ারও কোনো অনুমতি নেই আমাদের জন্য। বরং দায়িত্ব চলে আসলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে চেয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে আমরা বাধ্য। শঙ্কার দিকের পাশাপাশি আরেকটি আশার দিক এখানে রয়েছে। হতেও পারে, আরোপিত দায়িত্ব খুলুসিয়াতের সাথে পালনের প্রচেষ্টা দেখে আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি খুশি হয়ে যাবেন এবং মেহেরবানি করে আমাদেরকে মাগফিরাত দান করবেন। হতেও পারে, এ দায়িত্ব পালন পরকালে নাযাতের জন্য সহায়ক হবে, এ দায়িত্বই পরকালে নাজাতের উসিলায় পরিণত হবে। অতএব শঙ্কা-ভয় ও আশা-প্রত্যাশা এ উভয় দিককে একসাথে ধারণ করে আমাদের উপর চলে আসা দায়িত্ব পালনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই হচ্ছে আমাদের কর্তব্য। আমরা ইসলামী আন্দোলন করি মৌলিক দু’টি পুরস্কারের জন্য। সূরা সফের ৯-১৩ নাম্বার আয়াত খেয়াল করলে আমরা সে দু’টি পুরস্কারের কথা জানতে পারি। প্রথম ও মুখ্য পুরস্কার হচ্ছে জাহান্নাম থেকে বাঁচা, আল্লাহর মাগফিরাত পাওয়া, জান্নাতে যাওয়া ও জান্নাতের মধ্যে উত্তম আবাসে থাকার সুযোগ। যেটাকে এক কথায় বলা যায় ব্যক্তির পরকালীন মুক্তি তথা জান্নাতপ্রাপ্তি, যেটাকে আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে বড় পুরস্কার তথা ‘ফাউঝুন আযিম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় পুরস্কার হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্যের মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের বিজয়। এই দুই পুরস্কারের জন্যই আমরা ইসলামী আন্দোলন করি। তবে অবশ্যই দ্বিতীয় পুরস্কারের জন্য আমরা প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাই, মূলত তার মধ্য দিয়ে আল্লাহকে খুশি করে তাঁর নিকট থেকে প্রধান পুরস্কার স্বরূপ জান্নাত প্রাপ্তির জন্য। তাই ইসলামের বিজয়ের জন্য প্রচেষ্টা আমাদেরকে সেই পথেই চালাতে হয়, যে পথের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন ও রাসূলুল্লাহ সা. সে অনুসারে প্রচেষ্টা চালিয়ে দেখিয়ে গিয়েছেন, কারণ এটিই হচ্ছে অনুমোদিত পথ, যে পথে চলে প্রথম পুরস্কার পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ। আমরা বিপ্লবের জন্য কাজ করছি। একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের জন্য আমাদের হৃদয়ের মধ্যে স্বপ্ন এঁকে নিয়েছি। সংগঠন ইসলামী বিপ্লব তথা ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে, সংগঠনের একজন কর্মী হিসেবে সে প্রত্যাশিত বিপ্লবে আমাদের প্রত্যেকের অংশগ্রহণ কতটুকু হবে? সেটি বুঝার জন্য একটি যুদ্ধের ময়দানের উদাহরণ দিতে চাই। একজন সেনাপতি যুদ্ধে বিজয়ের জন্য যুদ্ধের ময়দানে নানানভাবে সৈন্যবাহিনীকে সাজান। কিছু সৈন্যকে তিনি সম্মুখ সমরের জন্য নিয়োজিত করেন, কিছু সৈন্যকে তীরন্দাজ বাহিনীর অংশ হিসেবে নিয়োজিত করেন, কিছু সৈন্যকে অশ্বারোহী বাহিনীর অংশ হিসেবে নিযুক্ত করেন, কিছু সৈন্যকে তিনি পদাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবে নিযুক্ত করেন, কিছু সৈন্যকে তিনি গিরিপথে দাঁড় করে দেন যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে যেন তারা না নড়ে যায়, আবার কিছু সৈন্যকে তিনি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে রেখে দেন যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন তারা সেখান থেকে না সরে যান। এখন যাদেরকে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হলো তারা যদি সেই নির্দেশনার আলোকে নিজ নিজ জায়গাতে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে তাদের সবার দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টার যোগফল হিসেবে সেই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়; কিন্তু অপরপক্ষে যাদেরকে যেখানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যদি নিজ নিজ জায়গায় দায়িত্ব পালন না করে তাদের স্থান পরিবর্তন করে ফেলে, যেমন যাদেরকে গিরিপথে দাঁড় করে দেয়া হয়েছে তারা যদি নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়াই সম্মুখ সমরে এসে যুদ্ধ শুরু করে দেন অথবা যাদেরকে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে তারা যদি নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়াই সম্মুখ সমরে এসে যুদ্ধ শুরু করে দেন তাহলে হয়ত সংঘর্ষ অনেক বেশি হবে, দেখে মনে হবে আমরা বোধ হয় প্রচণ্ড আকারে যুদ্ধ করতে পারছি কিন্তু সেই যুদ্ধে বিজয়ের সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। এই উদাহরণ থেকে যে শিক্ষা নিতে চাই সেটি হচ্ছে গোটা বিপ্লবের জন্য সংগঠন পরিকল্পিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যেখানেই আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, সেটি উপশাখায় হোক অথবা কেন্দ্রেই হোক, মূল সংগঠনে হোক অথবা পার্শ্ব সংগঠনেই হোক, সেখানে নিজেকে ইসলামের উপর অটল অবিচল রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জায়গাটিতে সংগঠনের নির্দেশনার আলোকে, সংগঠনের পরিকল্পনার আলোকে সে জায়গাটিকে পরিচালনা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো এবং অন্যান্য জায়গার জন্য দোয়া করা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার সুযোগ থাকলে তা করা। আমাদের গোটা দেশের যেই জনশক্তি আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা পেয়েছি সবাই মিলে আমাদের কাজ হচ্ছে গোটা সংগঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। সবাইকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগানোর স্বার্থে সংগঠনকে বিভিন্ন স্তরে সাজানো হয়েছে। যেমন কেন্দ্র, শাখা, থানা, ওয়ার্ড/ইউনিয়ন ও উপশাখা। কয়েকটি উপশাখাকে দেখভাল করার জন্য ওয়ার্ড, কয়েকটি ওয়ার্ড বা ইউনিয়নকে দেখভাল করার জন্য থানা, কয়েকটি থানাকে দেখভাল করার জন্য শাখা, শাখাগুলোকে সরাসরি দেখভাল করে কেন্দ্র। কেন্দ্রের নির্দেশনা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক, শাখা, থানা, ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে সংগঠনের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত সহজেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব আবার সংগঠনের প্রান্তিক পর্যায়ে থেকে তাদের কথা সহজেই কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সকল জনশক্তিকে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর এই প্রক্রিয়ার নামই হচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তর যদি যথাযথভাবে তাদের জন্য নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলেই তাদের সবার কাজের যোগফল হিসেবে কেন্দ্রীয় সংগঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে ইনশাআল্লাহ। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য সংগঠনের বিভিন্ন স্তরকে একই সূত্রে গেঁথে কাজে লাগানোর কী প্রক্রিয়া হতে পারে সেটিই এ পর্যায়ে বর্ণনা করার জন্য চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় ধাপসমূহ- – পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। – পরিকল্পনা অধস্তন শাখাগুলোর মধ্যে বন্টন করে দেওয়া। (যেমন: কেন্দ্রে যদি পরিকল্পনা নেওয়া হয় যে, এ বছর যেসব কলেজে সংগঠন নেই, সেগুলোর মধ্য থেকে ১০% কলেজে সংগঠন বৃদ্ধি করা হবে অর্থাৎ ন্যূনতম উপশাখা বৃদ্ধি করা হবে।

বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে করণীয় Read More »

আদর্শ উপশাখা ও পরিচালক

কেন্দ্রীয় সংগঠনের শাখাসমূহের আওতায় সারা দেশের সংগঠনকে যে ছোট ছোট ক্ষুদ্রতম কর্মক্ষেত্রের আকারে বিভক্ত করা হয় তাই উপশাখা। প্রতি উপশাখায় একজন দায়িত্বশীলসহ তিনজন কর্মী থাকে যারা কতিপয় নির্ধারিত কর্ম নিয়মিত সম্পাদন করে। উপশাখার পরিচয় : উপশাখা সংগঠন স্বীকৃত প্রাথমিক ইউনিট। উপশাখা হচ্ছে- Practical Field, Supply Center, Recruiting Center, Production Center, One kinds of industry. যেমন- রশি, জাল ও সীসা সংবলিত মাছ শিকারের একটি জালের মতো। রশি ও জাল যতই মজবুত হোক সীসা না থাকলে যেমন কাক্সিক্ষত মাছ শিকার করা যায় না, তেমনি আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিক আছে মনে হলেও সীসাসম উপশাখায় যথাযথ কার্যক্রম না থাকলে সংগঠন দুর্বলই থেকে যায়। আদর্শ সংগঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মজবুত উপশাখা। উপশাখার product কে Purify ও Modify করে ঊর্ধ্বতন সংগঠন। উপশাখার গুরুত্ব – -উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে। – রিক্রুটিং সেন্টার হিসেবে ভূমিকা পালন করে। – নির্দিষ্টমান পর্যন্ত লোক তৈরি হয় উপশাখার মাধ্যমে। – দাওয়াতি কাজের মূল ক্ষেত্র। – নেতৃত্ব তৈরির প্রাথমিক স্তর। – মজবুত উপশাখার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মজবুত সংগঠন। – মৌলিক কাজের অনেকাংশ উপশাখা সম্পাদন করে থাকে। – প্রচুর সংখ্যক সমর্থক উপশাখার সাথে জড়িত থাকে। – উপশাখাকেদ্রিক এরিয়া বেইজ এরিয়া হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় সংগঠন একান্ত কোনো কাজ না করতে পারলে অসুবিধা নেই, যদি উপশাখার কাজগুলো সঠিকভাবে হয়। কিন্তু উপশাখায় কাজ না হলে এক পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি ভেঙে পড়বে। উপশাখা যে রকম জনশক্তি সংগ্রহ করবে সংগঠন সে রকম নেতৃত্ব পাবে। এছাড়া উপশাখার নির্ধারিত অফিস ছাড়াই প্রোগ্রামসমূহ বাস্তবায়ন করা যায়। মসজিদ, ক্লাস রুম, খেলার মাঠ বা খোলা মাঠে এমনকি রেস্টুরেন্ট ও গাড়ি বা নৌকায় উপশাখার প্রোগ্রামসমূহ বাস্তবায়ন করা যায়। উপশাখাসমূহ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে। এজন্য বলা হয় উপশাখা সংগঠনের প্রাণ। আদর্শ উপশাখা: -উপশাখার কাজসমূহ নিয়মিত হওয়া। – নিয়মিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও রিপোর্টিং। – প্রত্যেক দফাভিত্তিক কাজ হবে। – পরবর্তী দায়িত্বশীল থাকবে। – উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীর ব্যাচ থাকবে। – ঊর্ধ্বতন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ। – নিয়মিত বৃদ্ধি পাবে (সাথী, কর্মী, সমর্থক, বন্ধু ও সুধী)। – উল্লেখযোগ্য হারে বায়তুলমাল আদায় হবে। – পাঠাগার সর্বদা সচল থাকবে। আদর্শ উপশাখার মৌলিক বৈশিষ্ট্যঃ ১. বৃদ্ধি সংক্রান্ত : প্রতিমাসে কমপক্ষে ২ জন কর্মী বৃদ্ধি, ৪ জন সমর্থক বৃদ্ধি, ৬ জন বন্ধু বৃদ্ধি ও ২ জন শুভাকাক্সক্ষী বৃদ্ধি করা। প্রতিমাসে কমপক্ষে ৫টি কিশোরকণ্ঠ, ২টি ইয়ুথ ওয়েভ ও ৩টি ছাত্র সংবাদের গ্রাহক বৃদ্ধি করা। ২. প্রোগ্রাম সংক্রান্ত – মাসের প্রথম দিকে ১টি প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম (কুরআন তালিম/ সামষ্টিক পাঠ) বাস্তবায়ন করা। – মাসের মধ্য দিকে ১টি দাওয়াতমূলক প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, বনভোজন প্রভৃতি বাস্তবায়ন করা। – মাসের শেষ দিকে ১টি কর্মী বৈঠক বাস্তবায়ন করা। – এছাড়াও মাসের যেকোনো সময় কমপক্ষে ১টি গ্রুপ দাওয়াতি কাজ করা এবং সোমবারকে দাওয়াতবার হিসেবে পালন করা। ৩. বায়তুলমাল সংক্রান্ত – জনশক্তি (সাথী, কর্মী), সমর্থক ও প্রতিমাসে নতুন এয়ানত বৃদ্ধি করা। – জনশক্তি (সাথী, কর্মী) ও শুভাকাক্সক্ষীদের ধার্যের ১০০% এবং সমর্থকদের ৬০% আদায় নিশ্চিত করা। – টেবিল ব্যাংক, ১টি দোকান বক্স ও ১টি কলস বৃদ্ধি করা ও আদায় করা। ৪. পাঠাগার সংক্রান্ত – পাঠাগার হতে প্রত্যেক জনশক্তি প্রতিমাসে কমপক্ষে ১টি কোরআন, ১টি হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য ইস্যু করে নেয়া ও পড়া। – প্রতিমাসে কমপক্ষে ১টি কোরআন, ১টি হাদিস ও ২টি ইসলামী সাহিত্য বৃদ্ধি করা। উপশাখা সভাপতি সাথী হওয়া এবং সেক্রেটারি সাথীপ্রার্থী হওয়া আবশ্যক। আদর্শ উপশাখা পরিচালনায় পরিচালকের গুণাবলি: – জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। – কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সবচাইতে আস্থাভাজন ব্যক্তি। – সবচাইতে বেশি ধৈর্যশীল। – সাহসিকতাপূর্ণ। – জরুরি প্রয়োজনে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী। – ভ্রাতৃত্ব ও প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা । – ত্যাগের ক্ষেত্রে অগ্রগামী। – কর্মীদের সাথে সমান ব্যবহার ও ইনসাফ কায়েম। – সুবক্তা। – নথিপত্র ও হিসাব সংরক্ষণে পারদর্শী। উপশাখা পরিচালকের মৌলিক দায়িত্ব: – যোগ্যতার আলোকে কর্ম বণ্টন। – তত্ত্বাবধান। – প্রোগ্রাম পরিচালনা। – সংবাদ আদান-প্রদান করা। – রিপোর্টিং ও পর্যালোচনা। আদর্শ উপশাখা দায়িত্বশীলের ভূমিকা কী: – উপশাখার এরিয়া সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান থাকা। – পঞ্চম থেকে কলেজ/ ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের সকল ছাত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ । এক্ষেত্রে মেধাবী ছাত্র, স্থানীয় প্রভাবশালী ছাত্র, অমুসলিম ছাত্র ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাদের পৃথক পৃথক তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। ক্যাম্পাস সংগঠনের ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের আলোকে এসব তালিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে। – ঊর্ধ্বতন সংগঠনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথার্থ ভূমিকা পালন করা। – সব জনশক্তি সক্রিয় রাখতে ও ক্রমান্বয়ে মানোন্নয়নের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা। – সর্বস্তরে বৃদ্ধির দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। – উপশাখার প্রোগ্রামসমূহ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো। – বায়তুলমালের এয়ানত আদায় ও বৃদ্ধির ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন। – সকল জনশক্তির পাঠ্যাভ্যাস বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করা, বইবিলি এবং নতুন বই সংগ্রহ করা। – আসর থেকে মাগরিব পাড়ায় ও খেলার মাঠে ভূমিকা পালন করা। এক্ষেত্রে উপকরণসহ এক মসজিদে আসরের নামাজ এবং অন্য মসজিদে মাগরিবের আদায় করা। ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে টার্গেটকৃত ছাত্রের পাড়ার মসজিদে গিয়ে আসরের নামাজ করা। – স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মোতাওয়াল্লির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। – সমাজের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করে শুভাকাক্সক্ষী বানানোর চেষ্টা করা। – গরিব, অসহায় ছাত্রদের পড়ানো, শিক্ষা উপকরণ প্রদান ও আর্থিক সহযোগিতার প্রচেষ্টা চালানো। – স্মরণীয় ও জাতীয় দিবসে বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। – মাসিক দায়িত্বশীল বৈঠকে প্রয়োজনীয় রিপোর্টসহ যথাসময়ে উপস্থিত থাকা। – জাতীয়, ইসলামী ও সাংগঠনিক দিবসসমূহ পালন করা ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা। – সকল পর্যায়ে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করা। – সিদ্ধান্ত পালনে আপসহীন হওয়া ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করা। মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালকের পরিকল্পনা : একটি উপশাখার মৌলিক ৪টি প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালকের পরিকল্পনা হবে- -মাসের প্রথম সপ্তাহে ১টি প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম (কুরআন তালিম) বাস্তবায়ন করা। – মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১টি দাওয়াতমূলক প্রোগ্রাম (সাধারণ সভা, চা-চক্র, সাধারণ জ্ঞানের আসর, বনভোজন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি বাস্তবায়ন করা। – মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ১টি প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম (সামষ্টিক পাঠ, কিশোরকণ্ঠ পাঠ, হাদিস পাঠ, সিরাত পাঠ, মনীষীদের জীবনী পাঠ ও একাডেমিক ক্লাস প্রভৃতি) বাস্তবায়ন করা। – মাসের চতুর্থ সপ্তাহে ১টি কর্মী বৈঠক বাস্তবায়ন করা। একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক কিভাবে এয়ানত তুলবেন: একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালক মাসের শেষ দিকে একটি কর্মী বৈঠকের আয়োজন করবেন। কর্মী বৈঠকে কর্মী ভাইদের এয়ানত আদায় করবেন। উপশাখা সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকসহ বাছাইকৃত কর্মী ভাইদের মাঝে সমর্থক ভাইদেরকে ভাগ/বণ্টন করে দিবেন, উপরোক্ত ভাইয়েরা নিজের অংশের সমর্থক ভাইদের এয়ানত তুলে বায়তুলমালে জমা দিবেন। উপশাখা সভাপতি শুভাকাক্সক্ষীদের এয়ানত আদায় নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের ১০০% এয়ানত আদায় এবং সমর্থক ভাইদের ৬০% এয়ানত আদায় নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন প্রয়োজনে এককালীন এয়ানত আদায় করতে হবে। দাওয়াতি কাজে একজন আদর্শ উপশাখা পরিচালকের ভাবনা:

আদর্শ উপশাখা ও পরিচালক Read More »

শাখার মাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ পদ্ধতি

একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে “A Good Plan is Half of the Work Done..” অর্থাৎ- একটি সুন্দর পরিকল্পনা একটা কাজের অর্ধেক। এজন্য যেকোনো কাজের পূর্বেই দরকার সুন্দর একটি পরিকল্পনা। কেননা আমাদের সময় হচ্ছে নির্দিষ্ট এবং এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমাদের বিভিন্ন ধরনের কাজ শেষ করতে হয়। সেজন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করতে হলে প্রয়োজন একটি সুন্দর ও কার্যকরী পরিকল্পনার। কারণ অগোছালোভাবে হয়তো অনেক কাজ করা সম্ভব কিন্তু দিন শেষে তা কখনোই ভালো ফল বয়ে আনে না। আর যিনি কাজ করেন তিনি নিজেও জানেন না যে তিনি আসলে কোথায় পৌঁছাতে চান। এলোমেলো কাজগুলোর থাকে না কোনো লক্ষ্য কিন্তু পরিশ্রম ব্যয়িত হয় অনেক বেশি।  ধরুন, ২ জন ম্যানেজারের অধীনে ১০ জন করে কর্মচারী দেওয়া হলো এবং প্রত্যেককেই আলাদাভাবে বলা হলো যে, এই ১০ জন কর্মচারীকে নিয়ে একটি লাইব্রেরিকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে সুন্দরভাবে সাজাতে হবে।  প্রথম ম্যানেজার চিন্তা করলেন একসাথে বসে সময় নষ্ট না করে প্রতিটি সময়কে আমরা কাজে লাগাবো। তাই তিনি প্রত্যেক কর্মচারীকে বললেন, যে যার মত বইগুলো সাজিয়ে ফেলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী সকলেই কাজ শুরু করল কিন্তু সকলের দক্ষতা সমান না হওয়ায় কেউ ভালোভাবে গোছালো আবার কেউ এলোমেলো করে ফেলল। ফলে সময় শেষ হলো কিন্তু কাজ শেষ হলো না। অনেক বই তারা সেল্ফে সাজাতে পারল না। কোন ধরনের বই কোথায় রাখতে হবে তারও কোনো নির্দেশনা না থাকায় অগোছালোভাবে বইগুলো রাখা হচ্ছিল। তাতে সহজে কেউ বই খুঁজে পাবারও অবকাশ আর রইল না।  দ্বিতীয় ম্যানেজার কাজটি পাবার সাথে সাথে লাইব্রেরির সামগ্রিক অবস্থাটা মাথায় নিলেন এবং টিমের সকলকে নিয়ে বসলেন। এরপর তিনি অন্তত এক ঘণ্টা ধরে কাজের পরিকল্পনা তৈরি এবং কর্মবণ্টন করে নিলেন। তিনি সকলকে বুঝালেন কোন ধরনের বই কোন স্থানে রাখতে হবে এবং কিভাবে রাখলে সর্বোচ্চ সংখ্যক বই গুছিয়ে রাখা যাবে। ১০ জনের প্রত্যেকের কাজও তিনি নির্দিষ্ট করে দিলেন। ফলে দেখা গেল নির্দিষ্ট সময় শেষ হবার অনেক আগেই তারা কাজটি করে ফেলল এবং পুরো কাজটিই খুব সাজানো-গোছানো হলো। একটু ভেবে দেখুন তো, প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যানেজার এবং তাদের টিমের কর্মচারীরা সকলেই কাজ করেছে কিন্তু তাদের উভয়ের কাজের পরিসমাপ্তিটা হয়েছে ভিন্নভাবে। এটার মূল কারণ হলো কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা বা না করার কারণে। এ জন্য বলা হয়- A leader is he who knows the way, follows the way and shows the way. একজন দক্ষ নেতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লক্ষ্য স্থির রেখে কর্মবণ্টনের মাধ্যমে সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা। আমাদের সংগঠনে যেহেতু দায়িত্বশীলদের চিন্তাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং এ চিন্তা ও কর্মের প্রতিফলনই ময়দানে সামগ্রিক কাজের ওপর পড়ে। তাই সংগঠনের পরিকল্পনাগুলো হওয়া চাই খুবই স্মার্ট এবং সুদূরপ্রসারী। মাসিক পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণ করলে তা বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। মাসের শুরুতেই প্রত্যেক শাখাকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সকল শাখাতেই মাসের শুরুতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে কিন্তু উক্ত পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা লক্ষ্য করা হয় না। সাধারণত প্রতি মাসে শাখার কিছু নিয়মিত কাজ থাকে (সদস্য বৈঠক, কুরআন ক্লাস, স্টাডি ক্লাস, আলোচনা চক্র ইত্যাদি) এ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি একটি শাখাকে আরো অনেক কাজ করতে হয়। অধিকাংশ শাখার ক্ষেত্রেই যা চিন্তা করার সময় হয় না। ফলে দেখা যায় বার্ষিক রিপোর্ট পর্যালোচনার সময় অনেক কাজই দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়। এ সমস্যা নিরসনের জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। যার ফলে আমরা বার্ষিক পরিকল্পনা খুব বেশি তৎপরতা ছাড়াই বাস্তবায়ন করে ফেলবো ইনশাআল্লাহ। মাসিক পরিকল্পনা তৈরির পূর্বে এবং পরামর্শসভা/ সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে মাসিক পরিকল্পনা পেশ বা অনুমোদনের আগে শাখা সভাপতি, সেক্রেটারি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক (যদি থাকে) ভাইদের সময় নিয়ে বসতে হবে। আলোচনাটি খুবই উন্মুক্ত এবং পর্যালোচনাধর্মী হতে হবে। যে সকল বিষয়কে সামনে রেখে উক্ত আলোচনা হতে হবে তা নিম্নরূপ: ১. বার্ষিক পরিকল্পনাকে সামনে রাখা ২. গত বছরের চলতি মাসের রেজুলেশন সামনে রাখা ৩. চলতি মাসের কেন্দ্রের টাস্কলিস্ট সামনে রাখা ৪. পূর্বের মাসের কাজের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পর্যালোচনা সামনে রাখা এই চারটি ডকুমেন্টস সামনে রাখতে হবে এবং একটা একটা করে এজেন্ডা সাজাতে হবে। এজেন্ডা সাজানোর পর নি¤েœাক্ত ছকের প্রতি চোখ বুলানো যেতে পারে। এই ছকটি প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো মাস থেকে সম্ভাব্য কোনো কাজ যেন বাদ না পড়ে যায়। প্রথমত-দাওয়াত প্রতি মাসের পরিকল্পনায় দাওয়াত সম্পর্কিত প্রোগ্রাম থাকাটা জরুরি। কারণ দাওয়াতের মাধ্যমে এই সংগঠনে নতুন নতুন নেতৃত্বের জন্ম হয়। যে ময়দানে যত বেশি দাওয়াতি কাজ হয় সেই ময়দান তত বেশি আন্দোলনমুখী। দাওয়াতের কাজটি যত সুপরিকল্পিত হবে তত বেশি ইসলামী আন্দোলন মজবুতি অর্জন করবে। তাই প্রতি মাসের পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কোন স্তরের ছাত্রদের নিয়ে তাদের উপযোগী কী ধরনের দাওয়াতি কাজ রাখা হয়েছে।  অবশ্যই এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত স্তরসমূহে ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে: স্কুল পর্যায়ে (কুইজ প্রতিযোগিতা, সামিট, সামার ক্যাম্প, রচনা প্রতিযোগিতা, সিঙ্গেল ডিজিট সংবর্ধনা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এছাড়াও স্কুল বিভাগের বার্ষিক রিপোর্টে অনেক প্রতিযোগিতার উল্লেখ রয়েছে) কলেজ পর্যায়ে (ক্যারিয়ার ফেস্ট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, এ+ সংবর্ধনা ইত্যাদি। এছাড়াও কলেজ বিভাগের বার্ষিক রিপোর্টে অনেক প্রোগ্রামের উল্লেখ রয়েছে)  অনুরূপভাবে মাদ্রাসা, পলিটেকনিক স্তরের ভাইদের কথা মাথায় রেখে প্রোগ্রাম রাখতে হবে। সব মাসেই সব ধরনের দাওয়াতি প্রোগ্রাম রাখাটা জরুরি নয়। প্রতি মাসে ময়দানের চাহিদা বিবেচনায় আয়োজন রাখতে হবে। তা ছাড়া অমুসলিম ছাত্র ও মুহাররমাদের মাঝে দাওয়াতি কাজের বিশেষ কর্মসূচিও রাখা দরকার। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, ময়দানে দাওয়াতি কাজের পদ্ধতির ক্ষেত্রে  সৃজনশীলতা বা নতুনত্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করা দরকার। এতে করে দাওয়াতি কাজের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত- সংগঠন এখনো অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে আমাদের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। সেসকল প্রতিষ্ঠানের তালিকা আমরা বছরের শুরুতেই করে থাকি। কিন্তু প্রতি মাসে সুপরিকল্পিত কোন উদ্যোগ খুব বেশি নেওয়া হয় না। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠানে আমাদের কাজ দুর্বল হয়ে গেছে এগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও আমাদের নেওয়া উচিত।  তাই মাসের শুরুতে তালিকা করতে হবে আমরা কোন প্রতিষ্ঠানকে মজবুত এবং কোথায় সংগঠন বৃদ্ধি করতে চাই। উল্লেখ্য এ ক্ষেত্রে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা বছরের শুরুতে থাকা চাই। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা করে প্রতি মাসে অল্প অল্প কাজ করলে সংগঠন বৃদ্ধি করাটা খুবই সহজ। এক্ষেত্রে প্রতি মাসে পরিকল্পনা নেওয়ার সময় বিগত মাসের প্রতিষ্ঠানে সংগঠন বৃদ্ধির যে কাজগুলো ছিলো তার যথাযথ পর্যালোচনা করা দরকার। তৃতীয়ত- প্রশিক্ষণ জনশক্তি এবং দায়িত্বশীলদের অবস্থা মাথায় রেখে প্রতি মাসেই কিছু প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের আয়োজন রাখা। তবে অবশ্যই নিয়মিত প্রোগ্রাম যাতে বাদ না পড়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমান অপসংস্কৃতি ও নব্য জাহেলিয়াতের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের জনশক্তিদেরকে হেফাজত ও তাদের নৈতিক বা চারিত্রিক মানকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে হলে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের কোনো বিকল্প নেই।  ময়দানের কিছু জনশক্তি থাকে সক্রিয় আর কিছু থাকে নিষ্ক্রিয়। তবে সকলকে নিয়েই আমাদের পথ চলতে হবে। এজন্য এই দুই স্তরের জনশক্তির কথা চিন্তা করেই

শাখার মাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ পদ্ধতি Read More »

আপনার উপশাখা কেমন আছে?

“সংগঠনকে যদি একটি দেহের সাথে তুলনা করা হয়, তবে উপশাখা হচ্ছে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যদি বলেন দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে ব্রেইন বা মগজ, তবে উপশাখা হচ্ছে সেই ব্রেইন। যদি বলেন, দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হার্ট, তবে উপশাখা হচ্ছে হার্ট। আপনি ফুসফুস, কিডনি বা লিভার যাই বলেন, সংগঠনের জন্য উপশাখা তাই।” – আমীরে জামায়াত আমাদের দাওয়াতি কাজের মূল ক্ষেত্রই উপশাখা। সাধারণ ছাত্র ও কর্মীদের নিয়ে সব মৌলিক প্রোগ্রাম উপশাখায় হয়। আদর্শ শাখার জন্য যেমন আদর্শ থানা প্রয়োজন, আদর্শ থানার জন্য প্রয়োজন আদর্শ ওয়ার্ড, আর একটি আদর্শ ওয়ার্ডের জন্য চাই আদর্শ উপশাখা। একটি শাখার মজবুতি, সক্রিয়তা, গণভিত্তি ইত্যাদি নির্ভর করে তার উপশাখার উপর। যে শাখার উপশাখাগুলো যত বেশি সক্রিয়, সে শাখা তত বেশি মজবুত। সংগঠন যদি একটি চারতলা বিল্ডিং হয়, তবে উপশাখা হচ্ছে এর নিচতলা বা ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে সে বিল্ডিং কি কখন মজবুতি অর্জন করতে পারবে? উপশাখা ফাংশন না করলে কী হয়? উপশাখা ফাংশন না করলে অনেকগুলো সমস্যা হতে পারে, যা আমরা অনেক আলোচনায় শুনেছি ও পড়েছি। এখানে প্রধান তিনটি সমস্যা নিয়ে সংক্ষেপে (আকলমান্দসে ইশারা কাফি হে) আলোচনা করা হলো। নিচের কাজ উপরে চলে আসে : একটা ওয়ার্ডের উপশাখা যদি ফাংশন না করে, তবে সেই ওয়ার্ডকে উপশাখার কাজ বাস্তবায়ন করতে হয়। তখন থানাকে আঞ্জাম দিতে হয় ওয়ার্ডের কাজ, তাহলে থানার কাজ তখন কে করবে? তখন আসলে কেউই তার কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। দশটা উপশাখার কাজ একটা থানা কখনোই করতে পারে না (দশের লাঠি একের বোঝা)। যে কাজ যেখানে হওয়ার কথা সে কাজ সেখানে না হলে, সেটা অন্যের জন্য বোঝা হয়ে যায়। এ জন্য যে কাজ করে, তাকে অনেক বেশি চাপ নিতে হয় এবং নিজের দায়িত্বের বাহিরে গিয়ে জবাবদিহিতা করতে হয়। তখন কেউই যথাযথভাবে নিজের কাজ আঞ্জাম দিতে পারে না। একটা উপশাখা যদি সক্রিয় না থাকে, তবে উপশাখার মৌলিক চারটি প্রোগ্রাম, বন্ধু বৃদ্ধি, সমর্থক বৃদ্ধি, কর্মী বৃদ্ধিসহ সকল কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আর এসকল কাজ বাধাগ্রস্ত হলে বাধাগ্রস্ত হয় মানোন্নয়ন, মান সংরক্ষণ এবং যোগ্য দায়িত্বশীল তৈরি। সংগঠনকে যদি আমরা একটি গাড়ির সাথে তুলনা করি, তবে উপশাখা হচ্ছে এর চাকা। গাড়ির চাকা যদি পাঙ্চার হয়, তবে ধাক্কাধাক্কি করে কখনোই গাড়িকে তার প্রকৃত গতিতে চালানো সম্ভব না। ঠিক তেমনি উপশাখাকে গতিশীল না করে, সংগঠনকে গতিশীল করা অসম্ভব। ২০২০ সালে থানা দায়িত্বশীলদের একটা প্রোগ্রামে আমীরে জামায়াত আফসোস করে বলেছেন, “জীবনের সব চাকা ঘুরে, শুধু উপশাখার চাকা ঘুরে না!” জনশক্তির কাক্সিক্ষত মান নিশ্চিত হয় না : একজন কর্মী বা সাথী যদি তার উপশাখায় দাওয়াতি কাজ, সামষ্টিক পাঠ, সাধারণ সভা, কুরআন তালিম, আলোচনাচক্র, কর্মী বৈঠকে নিজে অংশগ্রহণ করে বা অন্যদের করায়। এর পাশাপাশি তার উপশাখা দায়িত্বশীল বৈঠকের রিপোর্ট পেশ করে সাথী বা ওয়ার্ড দায়িত্বশীল হয়, তবে সেই সাথীর মান, আর এসব ছাড়া যে মান হবে, সেটা কখনোই সমান হতে পারে না। যে সকল বিষয় একজন জনশক্তির হাতে কলমে শেখার কথা, সেটা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে শিখিয়ে সেই মান আশা করা অবান্তর। আমাদের জনশক্তির মান কমা এবং নিষ্ক্রিয়তার অন্যতম একটি কারণ উপশাখার নিষ্ক্রিয়তা। একজন দায়িত্বশীল উপশাখার কাজ না শিখলে, ওয়ার্ডের কাজ কিভাবে করবেন? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না পড়ে কেউ কি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভালো করতে পারে? উপশাখা সংগঠনের প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনশক্তির কাজ শেখার ক্ষেত্র। যার যেখানে যা শেখার কথা, তাকে সেটা সেখানেই শিখতে দিতে হবে। যদি কেউ সেটা শেখারই সুযোগ না পায়, তবে সে দায় কার? জনে জনে দাওয়াত পৌঁছাবে না : তাছাড়া শুধু ওয়ার্ড-কেন্দ্রিক মানোন্নয়ন হলে দেখা যায়, এক জায়গা থেকে (এক এলাকা বা একই ডিপার্টমেন্ট) সকল মানোন্নয়ন হয়ে যায়। মানোন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত হয় না, বিধায় সংগঠনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মানোন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি উপশাখা থেকে মানোন্নয়ন করতে হবে। সব উপশাখা থেকে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করলে সব গ্রাম, পাড়া বা মহল্লা, শ্রেণী ও ডিপার্টমেন্টে মানোন্নয়ন হবে। সংগঠনের বিকেন্দ্রীকরণ হবে, ভিত্তি মজবুত হবে এবং সাধারণ ছাত্রের কাছে দাওয়াত পৌঁছাবে। যে কাজ একটা থানার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এতক্ষণে হয়তো আপনারা বুঝে গেছেন উপশাখাকে সংগঠনের রিক্রুটিং ইউনিট, সংগঠনের বিল্ডিং ব্লক, সংগঠনের ভিত্তি বা সংগঠনের প্রাণ কেন বলা হয়। গত কয়েক বছর ধরে কেনইবা কেন্দ্রীয় সংগঠন তার স্লোগানে ‘উপশাখা মজবুতীকরণ’কে গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। আসলে উপশাখা ছাড়া সংগঠনের স্ট্রাকচার (শাখা>থানা>ওয়ার্ড) এবং জনশক্তির মান (সদস্য>সাথী>কর্মী) কোনোটাই ঠিক রাখা সম্ভব নয়। উপশাখা হচ্ছে সংগঠনের শেকড়। শেকড় দেখা যায় না কিন্তু ছোট ছোট শেকড়ের উপর ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে বিশাল বিশাল গাছ। যদি এই শেকড় দুর্বল হয়ে যায়, তবে বিশাল গাছও আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। উপশাখার গুরুত্ব এখনই উপলব্ধিতে না নিলে, সামনে আমাদের ‘বিল্ডিং’ ধসের অথবা গাছ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। উপশাখা সক্রিয় করা যায় কিভাবে? উপশাখা সক্রিয় করার জন্য আমাদের প্রথমে বিশ্বাস করতে হবে যে, চাইলেই সকল উপশাখা সক্রিয় করা সম্ভব। যেখানে আমাদের উপশাখা ছিলো, সেই জায়গাটাতো এখনো আছে। শুধু সেখানে আবার নতুন করে ঘর বাঁধতে হবে, ভাঙাকেল্লায় আবার নিশান উড়াতে হবে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, If you fail to plan, you plan to fail! আমরা বলি, If you fail to dream, you dream to fail “আপনি যদি স্বপ্ন দেখতেই ব্যর্থ হন, তাহলে আপনি ব্যর্থ হওয়ারই স্বপ্ন দেখছেন।” অর্থাৎ উপশাখাকে নিয়ে প্রথমে আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। তার পরে একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা আমাদের উপশাখা সক্রিয় করবোই (ইনশাআল্লাহ)। এরপর ছয় মাস-ছয় মাস করে, এক বছরের একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রয়োজনে উপশাখা মজবুতীকরণের বছর ঘোষণা করা যেতে পারে (এখন আর সপ্তাহ বা মাসের কর্মসূচিতে সকল উপশাখা সক্রিয় করা কঠিন)। এজন্য আমাদের যে সকল উদ্যোগ নিতে হবে- তত্ত্বাবধান : উপশাখাকে দ্বিমুখী তত্ত্বাবধানের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা সব উপশাখায় দায়িত্বশীল দিতে না পারলেও মোটামুটি সব ওয়ার্ডে আমরা দায়িত্বশীল দিতে পারছি (আলহামদুলিল্লাহ)। ধরি, একটা ওয়ার্ডে চারটি উপশাখা আছে। এখন সেই ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে ছয় মাসের জন্য দুইটি উপশাখা সক্রিয় করার দায়িত্ব নিতে হবে (যদি উপশাখা পরিচালনা করার মতো আর কোনো সাথী/কর্মী না থাকে)। এর পাশাপাশি শাখার একজন সদস্যকে ঐ দুটি উপশাখা তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিতে হবে। সদস্য বৈঠকে যার যার তত্ত্বাবধানকৃত উপশাখা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। আসলে কেউ যদি উপর থেকে নিচে পড়ে যায়, তবে আমাদেরকে একটু নিচে নেমে তাকে হাত বাড়িয়ে উঠিয়ে আনতে হয়, তাই না? উপশাখাকে উঠিয়ে আনার জন্য তাই আমাদেরকেও একটু নিচে নামতে হবে। যে কাজ করতে হবে: উপশাখা দায়িত্বশীলদের (যারা উপশাখাকে সক্রিয় করার কাজ করবেন) কাজ থাকবে নির্দিষ্ট এবং কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত প্রতি মাসে তাদের কাজ হবে, চার সপ্তাহে উপশাখার চারটি মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা। প্রতি সোমবার উপশাখা থেকে গ্রুপ বের করা এবং মাসে অন্তত একজন কর্মী, একজন সুধী (এক্ষেত্রে ওয়ার্ডের কিছু সুধী উপশাখায় ভাগ

আপনার উপশাখা কেমন আছে? Read More »